গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ‘সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা’র বিভিন্ন তালিকা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তালিকায় প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নির্দিষ্ট নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তথ্যমতে, এই তালিকার কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি নেই; বরং এগুলো স্রেফ জনমনে তৈরি হওয়া কৌতূহল ও রাজনৈতিক জল্পনা।
বিএনপির বর্তমান কৌশল এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এগুলো সবই গুজব। সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে যেসব নাম আসছে, তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তালিকার দ্রুত পরিবর্তনশীল চরিত্রই বলে দিচ্ছে যে এগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নয়। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের খবর হলো, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মুহূর্তে পদ-পদবি বণ্টনে মনোযোগ দিচ্ছেন না। তার বর্তমান অগ্রাধিকার হলো—স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
তারেক রহমান ও বিএনপির বর্তমান রণকৌশল হলো ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ বা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। এর প্রধান কারণগুলো হলো, আমলাতন্ত্রের পুনর্গঠন করে প্রশাসনের ভেতরের অস্থিরতা কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আনা। কোনো নেতার নাম আগেই প্রকাশ পেলে তিনি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মহলও বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
তবে বড় মন্ত্রিসভার চেয়েও বিএনপি সম্ভবত শুরুতে ক্ষুদ্র পরিসরের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে ঝুঁকবে। এর কৌশলগত সুবিধা হলো: নিজেদের মধ্যে রেষারেষি বা ক্ষোভ কমানো, শুরুতেই সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেয়ে শাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখা ও ‘আগে ছোট, পরে বড়’—এই নীতিতে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাদের নাম খুব আগেভাগে আলোচনায় আসে, চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম না থাকার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সংবেদনশীল নিয়োগগুলো সাধারণত একেবারে শেষ মুহূর্তে এবং অতি গোপনীয়তার সাথে করা হয়।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো তালিকাগুলো মূলত মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও উৎকণ্ঠার প্রতিফলন। যতক্ষণ পর্যন্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান না হচ্ছে, ততক্ষণ এসব ‘নিশ্চিত’ তালিকা কেবল প্রচারণার শব্দ বা ‘নয়েজ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আসল লড়াইটা এখন পদ পাওয়ার নয়, বরং একটি টেকসই প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি করার।
মন্তব্য করুন