ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। একসময় নিয়মিতভাবে সিনেমার শুটিং সেটে ব্যস্ত সময় কাটালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁকে আগের মতো চলচ্চিত্রে দেখা যায় না। বর্তমানে তিনি বেশি সময় দিচ্ছেন বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের ফটোশুট, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে। তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ঢালিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া তাঁর কিছু মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অপু বিশ্বাস দাবি করেন, গত এক দশকে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে এবং সেই পরিবর্তন ইতিবাচক নয়। তাঁর মতে, ২০১৬ সালের পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা ধরনের ‘নোংরামি’ শুরু হয়েছে, যা ধীরে ধীরে পুরো ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অপু বিশ্বাস। পরবর্তীতে তিনি নাটকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন। এরপর প্রয়াত নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। সেই শুরু থেকে ধীরে ধীরে তিনি ঢালিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন এবং এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন।
অপু বিশ্বাস বলেন, তিনি যখন ২০০৭-০৮ সালের দিকে চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ ছিল ভিন্ন। তাঁর ভাষায়, সে সময় চলচ্চিত্র অঙ্গন ছিল অত্যন্ত কর্মচঞ্চল এবং সৃজনশীলতায় ভরপুর। নিয়মিত নতুন নতুন সিনেমা নির্মিত হতো, শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যেও ছিল সহযোগিতার মনোভাব। দর্শকরাও তখন দেশীয় চলচ্চিত্রকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিতেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবেশ বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি। অপু বিশ্বাসের মতে, ২০১৬ সালের পর থেকে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে, যা শিল্পের সুস্থ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতি অনেক সময় এমন মনে হয় যেন পুরো ইন্ডাস্ট্রি একটি ‘ডাস্টবিনে’ পরিণত হয়েছে। যদিও তিনি ঠিক কোন ধরনের অনিয়ম বা সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।
অপু বিশ্বাসের মতে, মতভেদ বা বিভক্তি যে কোনো ইন্ডাস্ট্রিতেই থাকতে পারে। বলিউড, হলিউড কিংবা টালিউড—সব জায়গাতেই বিভিন্ন মত ও পক্ষ-বিপক্ষের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু সেসব জায়গায় ব্যক্তিগত মতভেদের কারণে কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং সবাই নিজেদের কাজের জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সেই পেশাদার সংস্কৃতির ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন।
গত কয়েক বছরে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও সময় দিয়েছেন অপু বিশ্বাস। তিনি নিজেও একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং সেই প্রতিষ্ঠান থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অভিনেত্রী হিসেবে আবারও নিয়মিতভাবে বড় পর্দায় কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভালো ও মানসম্মত গল্পের অভাবের কারণেই তিনি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম সিনেমায় কাজ করছেন। এ কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও ফটোশুটে তাঁকে বেশি দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চলচ্চিত্রের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন অপু বিশ্বাস। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি দুটি নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর একটি হলো আদর আজাদের সঙ্গে ‘সিক্রেট’ এবং অন্যটি আবদুন নূর সজলের সঙ্গে ‘দুর্বার’। ইতোমধ্যে এই দুই সিনেমার অর্ধেকের বেশি শুটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেও বেশ মনোযোগ দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করছেন এবং নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, যাতে নতুন চরিত্রগুলোতে তিনি ভিন্নভাবে দর্শকের সামনে হাজির হতে পারেন।
এর আগে তিনি পরিচালক বন্ধন বিশ্বাসের ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘লালশাড়ি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘লালশাড়ি’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে অপু বিশ্বাসের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। সিনেমাটি নির্মাণের মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
সব মিলিয়ে, চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সমালোচনামূলক মন্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করলেও অপু বিশ্বাস আবারও সিনেমায় নিয়মিতভাবে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন। ভালো গল্প ও মানসম্মত নির্মাণ পেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী বলেও জানান এই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা।
মন্তব্য করুন