শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি মদ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঠিক এই সময়েই নতুন করে আরেকটি চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, কাস্টমস থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ ছাড় পাওয়ার পেছনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও গুঞ্জনটি ইতোমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি দেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে মেহজাবীন চৌধুরীর বিমানবন্দর সংক্রান্ত ঘটনাটি উঠে আসে। আড্ডায় উপস্থিতদের সামনে তিশা নাকি স্বীকার করেন যে, বিমানবন্দরে মেহজাবীন মদসহ আটকের বিষয়টি সত্য ছিল। এমনকি আটকের পর সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন—এমনটাই দাবি ওই গোপন সূত্রের।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় বলে জানা যায়।
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বেশি অ্যালকোহল বহন করলে শুল্ক জটিলতা বা মামলা হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো মামলা না করে জব্দ পণ্যের রসিদ প্রদান করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সময় প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তা মুচলেকা দিয়ে জানান, লাগেজে থাকা মদের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরদিন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন মেহজাবীন চৌধুরী। সেখানে তিনি সরাসরি মদ বহনের অভিযোগ অস্বীকার বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
তার পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।” তার এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—ঘটনাটি কি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাব কাজ করেছে?
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, কথিত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি স্পষ্ট করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা জরুরি। অন্যথায় গুঞ্জন ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ভেতরেই আলোচনাটি ঘুরপাক খেতে থাকবে।
মন্তব্য করুন