ইরানের শাসন ব্যবস্থা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব পান, তবে মূল ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে থাকে। ৩৭ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় পণ্ডিতের সন্তান ছিলেন এবং ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৯ সালের জুনে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ধর্মীয় নেতাদের বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তিনি ইরানের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোনো চ্যালেঞ্জ কখনও কখনও তিনি সহিংসভাবে দমন করেছেন।
পররাষ্ট্র নীতিতেও খামেনি ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং মুখোমুখি অবস্থান বজায় রেখেছেন। এছাড়া তিনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং হলোকাস্ট ঘটেছে কি না তা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
খামেনির শাসনামলে ইরানে সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছয় সন্তানের জনক। তার দীর্ঘ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং কঠোর নীতিগত অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্তব্য করুন