আপনি কি জানেন, আগামীকাল প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের পর পূর্ব আকাশের দিগন্তের ঠিক ওপরে দেখা যাবে ধূমকেতু C/2025 R3 (PANSTARRS)। এর পর এটি আর পূর্ব আকাশে দেখা যাবে না, কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটি সূর্যের খুব কাছে চলে যাবে। সূর্যের তীব্র আলোর কারণে পরবর্তী কয়েকদিন এটি মহাকাশে অদৃশ্য থাকবে।
তবে মন খারাপের কিছু নেই! ধূমকেতুটি আবার ২৮ এপ্রিল থেকে সূর্যাস্তের ঠিক পর পর পশ্চিম আকাশের দিগন্তের কাছে দেখা দেবে। তবে সন্ধ্যার গোধূলি আলোর রেশ থাকায় এটি স্পষ্ট দেখার জন্য আমাদের ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চৌঠা মে-র পর থেকে আকাশ অন্ধকার হওয়ার সাথে সাথে এর দেখা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।
চলুন কমেট C/2025 R3 (PANSTARRS) সূর্যের কাছ থেকে ঘুরে আসতে আসতে আমরা জেনে নেই ধূমকেতু আসলে কী?
ধূমকেতু হলো মহাকাশে পরিভ্রমণরত বরফ, ধূলিকণা ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তু। এটি যখন সূর্যের কাছাকাছি আসে, তখন সূর্যের তাপে এর ভেতরের বরফ সরাসরি বাষ্পীভূত (Sublimation) হয়ে ধূলিকণা ও গ্যাস নির্গত করে। ফলে ধূমকেতুর চারপাশে একটি উজ্জ্বল মেঘ (কোমা) এবং দীর্ঘ একটি লেজ তৈরি হয়। অধিকাংশ ধূমকেতু আমাদের সৌরজগতের নেপচুনের বাইরের কুইপার বেল্ট বা তারও দূরের ওর্ট মেঘ (Oort Cloud) থেকে আসে।
কেন এই ধূমকেতুটি বিশেষ?
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হয়েছিল এর আবর্তন কাল ১ লক্ষ ৭০ হাজার বছর। কিন্তু বর্তমানে আরও নিখুঁত গাণিতিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে যে এর কক্ষপথ হাইপারবোলিক (Hyperbolic)। এর অর্থ হলো, এটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে চিরতরে আমাদের সৌরজগৎ ছেড়ে চলে যাবে। অর্থাৎ, মানব ইতিহাসে আমরাই শেষবারের মতো এটিকে দেখার সুযোগ পাচ্ছি!
কীভাবে দেখবেন?
মেঘ আর আলোক দূষণের এই ঢাকা শহর থেকে খালি চোখে এটি দেখার সম্ভাবনা কিছুটা কম। তবে ভালো মানের বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে আপনি সহজেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
সহজ টিপস: যদি আকাশে এটি খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তবে স্মার্টফোনে SkyGuide বা এই ধরণের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করে সার্চ অপশনে ধূমকেতুটির নাম (C/2025 R3) লিখুন। অ্যাপটিই আপনাকে আকাশের সঠিক দিকে নির্দেশ করবে।
এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না! মহাকাশের এই এককালীন অতিথিকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিন।
মন্তব্য করুন