৬ লাখ টাকার একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনতে গিয়ে খরচ গুনতে হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকা—ঢাকার বাস্তবতা এখন এমনই চমকপ্রদ। শোরুমে যেখানে একটি নতুন সিএনজি ৫ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে সেটিকে রাস্তায় নামাতে গিয়ে ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে এক জটিল প্রক্রিয়ার ফাঁদে। অভিযোগ রয়েছে, দালাল, অসাধু মালিক ও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এই খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কয়েক গুণ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০০১ সালে পরিবেশ দূষণ কমাতে টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সির পরিবর্তে সিএনজি অটোরিকশা চালু হয় ঢাকায়। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ১৩ হাজার এবং পরে আরও প্রায় ২ হাজার ৬৯৬টি সিএনজির নিবন্ধন দেওয়া হয়। প্রতিটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ বছর। তবে নতুন নিবন্ধন প্রায় বন্ধ থাকায় এখন পুরোনো নম্বর প্লেটই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় ‘সম্পদ’।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় বৈধ সিএনজির সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৬৯৬টি। যদিও শুরু থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ৯৯৫টি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৪৫টি, যা সংকট আরও বাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএনজি কিনতে গেলে আসল সমস্যা শুরু হয় নিবন্ধন বা নম্বর প্লেট ঘিরে। নতুন নিবন্ধন না থাকায় পুরোনো একটি নম্বর কিনতেই গুনতে হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে পুরোনো গাড়ির জন্য দিতে হয় আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে একটি নতুন সিএনজি রাস্তায় নামাতে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
চালকদের অভিযোগ, এই খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা দালালদের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই টাকা নেয়। ফলে সাধারণ চালকদের পক্ষে এই ব্যবসায় আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক মালিকের হাতেই পুরো খাতের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে, যারা হাজার হাজার চালককে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএনজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার মূল কারণ নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এটি তুলে না দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি সড়কের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নিবন্ধন দিতে হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরে আরও এক হাজার নতুন সিএনজি অটোরিকশা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন