ডিজিটাল ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
Shopno Bunon Real Estate (Reborn)

আ.লীগের বিভিন্ন কার্যালয় খোলার চেষ্টা, নেপথ্যে কী?

আ.লীগের বিভিন্ন কার্যালয় খোলার চেষ্টা, নেপথ্যে কী?

নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, অনেক জায়গায় তালা খুলে ভেতরে ঢুকেছেন এবং কার্যক্রম শুরু করেছেন—এমন খবর গত কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এই তৎপরতা কি দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে হচ্ছে, নাকি কর্মীদের নিজস্ব উদ্যোগ? নাকি এর পেছনে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আশ্বাসের বিষয় আছে—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত বলা যায়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে দলটি এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে দলটি সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে প্রবেশ করছেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুল দিচ্ছেন, স্লোগান দিচ্ছেন—এমন ঘটনা একের পর এক ঘটছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কার্যালয় খোলার পরপরই পাল্টা হামলা, ভাঙচুর বা আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের মতে, দলের কার্যালয় কখনো নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তাই নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যাওয়ার কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, এখানে কোনো নির্দেশনা বা সমঝোতার বিষয় নেই। কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ে যাবে—এটাই স্বাভাবিক। ইউনূসের সরকারের বিদায়ের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সবার জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত হবে বলে তৃণমূলের কর্মীরা আশা করে এখন কার্যালয়ে যাচ্ছেন বা যেতে চাইছেন। তিনি আরও যোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশের বড় রাজনৈতিক দল, কর্মীরা কার্যালয়ে যাওয়া তাদের রাজনৈতিক অধিকার। দল তাদের উৎসাহিত করছে, কারণ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে তৃণমূল পর্যায়ের কিছু কর্মীর বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যে আলোচনা করেন, সেখানে তিনি যার যেখানে সম্ভব দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী রিহান সরদার বলেন, তারা শেখ হাসিনার একটি বার্তা পেয়েছেন যাতে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর থেকেই সব জায়গায় চেষ্টা চলছে—ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে যে যেভাবে পারছে।

নির্বাচনের আগে অনেক জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোটের সমর্থন চেয়েছিলেন। সে সময় কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনের পর কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে বা বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। কিন্তু কোনো কোনো জায়গায় স্থানীয় বিএনপি বা জামায়াতের অভ্যন্তরীণ গ্রুপের প্রতিপক্ষরা এখন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে কার্যালয় খোলার পর হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

এই তৎপরতা শুরু হয় নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড় থেকে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে স্থানীয় বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে তিনি দাবি করেন, তিনি জানতেন না এটা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এরপর গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর দশমিনা, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, জামালপুর, রাজবাড়ীসহ অনেক জেলা-উপজেলায় কার্যালয় খোলা, পরিষ্কার করা এবং স্লোগান দেওয়ার খবর এসেছে। অন্তত ১৫টিরও বেশি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, কিছু জায়গায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যেমন ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে ভেতরে টায়ারে আগুন জ্বালান। দিনাজপুর, চাঁদপুর, খুলনাসহ কয়েক জায়গায় আগুন বা ভাঙচুরের খবরও এসেছে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ৩২-এর সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ও ২০২৪-এর পর হামলা-অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে পরিত্যক্ত ছিল। নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে অবস্থান নেন কয়েকজন। ২০ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিতে নারী কর্মীরা পতাকা টানিয়ে স্লোগান দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, অনেক জায়গায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাইবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু দলটির কর্মী-সমর্থকরা দেশে আছেন। স্থিতিশীলতার স্বার্থে কার্যালয় খোলা বা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া ইতিবাচক হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, এটা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরুর একটা প্রক্রিয়ার সূচনা। অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা গ্রহণ করেনি, কিন্তু নির্বাচিত সরকারকে প্রত্যাখ্যানও করেনি। বিএনপির আগেও অন্য দলকে সুযোগ দেওয়ার উদাহরণ আছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম আশা করছেন, এসব বিপত্তি কেটে যাবে এবং সরকার শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাগুলো নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটা নতুন মোড় দেখাচ্ছে, যেখানে আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠছেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়াও তীব্র হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫৪ জেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রবাসীদের সুখবর দিল আরব আমিরাত সরকার

সিম কিনে মামলার আসামি, ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার শিকার বহু পরিবার

ইরানের হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে আত্মগোপনে হাজারো মার্কিন সেনা

যুদ্ধ বন্ধে তিন শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আখাউড়া দেবগ্রামে রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি: দুর্ভোগ চরমে!

রাষ্ট্রপতির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই : তাহের

প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস আজ

১০

মধ্যরাতে লাইভে এসে ২০ দিনের কাজের হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

১১

৫ আগস্টের পর ভাগ্য খুলেছে জামায়াত নেতার ছেলের

১২

প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারে সচ্ছলতা আনা আমাদের দায়িত্ব

১৩

তখন থেকে ঢালিউডে ‘নোংরামি’ শুরু! বিস্ফোরক দাবি অপু বিশ্বাসের

১৪

আকিজ বশির গ্রুপে চাকরি, দ্রুত অনলাইনে আবেদন করুন

১৫

জ্বালানি সংকট : আজ থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

১৬

এবার ২৬ মার্চে আলোকসজ্জা করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

১৮

হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রপতি

১৯

পুলিশে ‘সার্জেন্ট’ পদে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন যেভাবে

২০